তোমার জন্য কবিতা-২৭

সবার জীবনে প্রথম দেখাগুলো হয়তো এমনি হয়ে থাকে (আমি সেটাকে প্রথম দেখাই বলবো) আমি ময়ূর-নীল মনিপূরী শাড়িতে সারা ঢাকা শহর তোমাকে খুঁজেছি, ক্যাফে ম্যাঙ্গো, চারু চত্বর, শেষে অলিয়ঁসের ক্যাফেতে পেয়ে গেলাম তোমাকে, হাতে তোমার ওফ লাভ এন্ড আদার ডেমনস্, আমার দিকে চোখ তুলে তাকালে- তোমার কিউপিডের তীরের মত তিক্ষ্ণ চোখের মনিতে, তোমার গ্রীক ভাস্কর্যের মত …

শামুক সময়

আজ বেলা শেষের নরম ‍আলো দেখে মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা ... এমন নরম লাজুক, এক আলো ছিল আকাশে বাতাসে শেষ হেমন্তের বিকেল তোমার হাতে আলতো করে ধরা বই আর হালকা ঘাড় বাকানো দেখে-- মনে হয় মাইকেলেঞ্জলোর ডেভিড এর কথা; আমার নীল শাড়ির প্রান্তে হেটে বেড়ায় অস্বস্তিকর একটা শব্দ নিয়ে কয়েকটা বিচ্ছিন্ন শামুক--- আমার দিকে …

তোমার জন্য কবিতা – ৩

(রদকোর দরজাগুলো)   ভাগ্যিস! বৃষ্টি ছিলো বলে বুঝতে পারোনি আমার চোখে জল তোমার যাবার সময়, সেই দিন বৃষ্টিজলের উৎস্য খোঁজার চেষ্টা করলাম মেঘ, আকাশ নাকি স্বর্গ? আমার চোখের জলে বুঝতেই পারোনি বৃষ্টি হচ্ছিল সেই দিন তোমার যাবার সময়-- রদকোর পেইন্টিং এ যেভাবে দাড়িয়ে থাকে একের পর এক দরজাগুলো গভীরতম দুঃখ নিয়ে জ্বল জ্বলে মেরুন, ধুসর, …

শুন্যগর্ভ

তুমি আমার অদৃশ্য গর্ভ‍াশয়ের অন্ধকারে  বেড়ে উঠছো, ছোট্ট একটা মটরশুটি আকারের ভ্রুন থেকে ভূমিষ্ঠকাঙ্খিত   শিশু  হয়ে  উঠছো প্রতিনিয়ত, আমি সেই গর্ভাশয় বয়ে চলি শামুকের মতো। আমি সেই  অন্ধকারকে বলে দেই আমার শিশুর সন্তানের মর্মবেদনা, আমি সেই জরায়ু বিহীন মা এক নিজের ভালোবাসাকেই করেছি ধারন অদৃশ এক গর্ভে , আমার চির ভরমৌসুম শরীরে। প্রসব বেদনায় কাতর …

কবিগুরুর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি: সুন্দর তুমি চক্ষু ভরিয়া এনেছো অশ্রুজল !

Art of Peace: ২০০৬ সালের শেষের এক বিকেলে। শরৎ কালের লন্ডন যেন নীল আকাশের তলে হারিয়ে যাওয়া, ম্যাগনোলিয়া রঙের রোদের শহর। হারিয়ে যাবো বলে সেই শরতের বিকেলে, হাটতে হাটতে আমিও পা বাড়াই লন্ডনের পাথরশক্ত রাজপথে। সবুজ রঙের পাতায় সবে হলদেটে আভা। বাতাসে ভরে আছে পাতাদের আর শেষ গ্রীষ্মের শুকনো ফুলের ঘ্রাণ। আমি পাতাল রেল থেকে …

কামসুত্র-৮

আজ রাতে চাঁদ নেই বৃষ্টিও হবে না জানি— প্রেম কি হবে প্রেম আমার ? তোমাকেই যে দেবতা মানি !

কামসুত্র-৯

কামনার জল শরীর আমার তরল রেড ওয়াইন – পান করে যাও, কামুক তুমি খেয়াল নেই উত্তর-দক্ষিন !

স্বপ্ন অভিলাষী

আমি  না থাকলে, তোমার ঘেমে ওঠা  চোখের চশমা কে মুছে দেবে শাড়ীর আচলে? কে দেবে অজানা অভিমানের দরজা খুলে আর চুলের শিকড়ে মাটি নিঙড়ে, তোমার জামায় বোতাম ছেড়া আহ্ ! আজো ভুলেছো ছাতাটা ? ঘুম থেকে জেগে কে দেবে চায়ের সাথে ভাজা লুচি, ‍আমি চলে গেলে শুন্য করে দুবাহু – দীর্ঘশ্বাসে  বোলো  না যেনো ঘরের মাঝে …

অধ্রুব অনতীত

সেই দিন, আমাদের চুম্বনে ছিলো এক অদ্ভুত উন্মত্তা ...শতবছরের মৃত জমে থাকা কোনো আগ্নেয়গিরি, যেনো – তার সোনালী লাভার বন্যায় ভাসিয়ে দিলো ক্লিম্টের ক্যানভাস... ছোটো ছোটো ঢেউয়ে ঘেরা চুম্বনের সোনালী মাধুর্যতায় আলিঙ্গনের সোনালী আগুনের উষ্ণতায়, কামনার সোনালী জোনাকি জ্বলে জ্বলে উড়ে বেড়ায় সারা ক্যানভাস জুড়ে, এক এক করে-- আর, আমাদের চুম্বনে ছিল লাল-জবার সুমধুর অমৃত …

বিচ্ছিন্ন বদ্বীপ

আমি সেই  বিচ্ছিন্ন বদ্বীপ যে  কোনো দিনো মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত ছিল না ভাসতে ভাসতে আকাশ আর জল ভাসতে ভাসতেই অথই সাগর মাঝে পেলাম ঠিকানা— আমি সেই  বিচ্ছিন্ন বদ্বীপ যার ঠিকানা সে নিজেই জানে না বা জানে আমি সেই  বিচ্ছিন্ন বদ্বীপ যার ঠিকানা, যার নিজের শরীরের মানচিত্রে  বাঁধা আর বৃক্ষ গুলো  সব যেনো শিকড়  সহ …