শুভ জন্মদিন : ভিনসেন্ট

ভিনসেন্ট এর এ্যক্সিবিশন; The Real Van Gogh The Artist and his Letters, রয়েল এ্যাকাডেমি ওফ আর্ট, লন্ডন, এপ্রিল ২০১০

‘এ কষ্ট কোনোদিনো শেষ হবার নয়’   মৃত্যূর ঠিক  চারদিন আগে ছোটো ভাই থিও কে লেখা  শেষ  চিঠিতে বলে যায় বিশ্বের সবথেকে ক্ষেপাটে, সবথেকে সৎ, সবথেকে আত্মবিশ্বাসী চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গো (৩০ মার্চ ১৮৫৩ – ২৯ জুলাই ১৮৯০ )।   হল্যান্ড সহ  সারা বিশ্ববাসী  আজকে  জগৎ-বিখ্যাত এই শিল্পীর ১৫৮ তম জন্মদিন পালন করছে। ভিনসেন্ট-এর জন্মের ঠিক এক বছর আগে, একই দিনে ভিনসেন্ট-এর মা এ্যানা  একটি পুত্র সন্তানের  জন্ম দেন, তার নাম ও রাখা হয়। ‘ভিনসেন্ট’। কিন্তু সে শিশু অবস্হায় মারা যায়।  যদিও সেই সময় এটাকে কুসংস্কার মানা হোতো।  আজ সারা বিশ্ব জানে ভিনসেন্ট ছাড়া এ পৃথিবী কখনই পূর্ন নয় ! আমার সব চাইতে প্রিয় এই শিল্পীর জন্মদিনে চোখের জলে শ্রদ্ধা ‍নিবেদন করা ছাড়া আর কিছুই দেয়ার নেই তাঁকে‍ ।

শিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গো

১৮৫৩ সালে ৩০ মার্চ হল্যান্ডের গ্রুট-জুনদার্ট শহরে জন্ম গ্রহন  করে কালজয়ী এই শিল্পী। পুরো নাম ভিনসেন্ট ভ্যান গো। মাত্র ৩৭ বছরের একটি সংক্ষিপ্ত জীবন এবং আরো সংক্ষিপ্ত ‌একটি শিল্পী জীবন (মাত্র ১০ বছরের )।  ভিনসেন্ট এই দশ বছরে রেখে গেছেন প্রায় ৯০০ ক্যানভাস সহ  ১১০০ ড্রয়িং। এছাড়াও ভিনসেন্ট  প্রায় অসংখ্য চিঠি লেখেন, বেশীর ভাগই তার ছোট  ভাই প্রিয় থিওকে। প্রতিটি চিঠিই তাঁর শিল্পী সত্ত্বার অসীম গভীরতার চিহ্ন বহন করে। সেসব চিঠির মধ্যে ৯০০ এরও বেশী এখোনো অক্ষত আছে। জীবদ্দশায় শিল্পী হিসাবে ভিনসেন্ট  স্বিকৃতী পায়নি। ভিনসেন্ট  এর মৃত্যুর ১১ বছর পর, ১৭ মার্চ, ১৯০১ সালে প্যারিসে ভিনসেন্ট এর ৭১ টি শিল্পকর্মের একটি প্রদর্শনী হয়, ছোট ভাই-এর স্ত্রী জোয়ানার সহযোগিতায়। সেখান থেকেই শিল্পী হিসাবে ভিনসেন্ট   তাঁর যোগ্য স্থানটি পেতে শুরু করেন। বেঁচে থাকাকালীন সময়ে মাত্র একটি  ছবি বিক্রি করেও মর্ম পীড়ায় ভুগেছেন এই অসীম নিবেদিতপ্রান শিল্পী।   বর্তমানে তাঁর শিল্পকর্মের মুল্য আকাশছোঁয়া। এই অসাধারন সংবেদনশীল শিল্পী আজো প্রভাবিত করে চলেছেন পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য শিল্পীকে।

ভাইকে লেখা ভিনসেন্ট এর একটি চিঠি ড্রইং সহ

ভিনসেন্ট  তাঁর নিজ জন্মকে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেনি কোনোদিনো । আত্মধিক্কারে নিজেকে র্জজরিত করেছেন  সর্বদায়। নিজের অগ্রজের মৃত্যূর কারণ হিসেবে নিজেকে দোষারূপ করেছেন। ভালোবাসার কাঙাল এই ক্ষেপাটে প্রেমিক, শেষ পর্যন্ত  মৃত্যূকেই আপন করে নেয়, সাধারনত অসফল   প্রেমিকেরা যেটা করে। মাঝে মাঝে মনে হয়, হয়তো ঠিকি করেছিলো ; এই নিষ্ঠুর বিশ্ব ভিনসেন্ট  এর মত নিষ্পাপ প্রেমিকদের জন্য নয়। প্রেমিক মারা গেলেও প্রেম বেঁচে থাকে, ভিনসেন্ট   বেচে  রবে  সেই প্রেমে, সব প্রেমিকদের  হৃদয়ে, শিল্পপ্রেমিকদের তো বটেই।

“Now I understand what you tried to say to me,
How you suffered for your sanity,
How you tried to set them free.
They would not listen, they did not know how
Perhaps they’ll listen now.
For they could not love you,
But still your love was true.
And when no hope was left in sight
On that starry, starry night,
You took your life, as lovers often do.
But I could have told you, Vincent,
This world was never meant for one
As beautiful as you.”

(( ভিনসেন্টকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা ডন ম্যাকলীনের স্টারী নাইট গানটির কিছু অংশ  (১৯৭১) ))

ভিনসেন্ট ভ্যা গো’র প্রতিকৃতির সামনে আমি, সুইজারল্যান্ড প্যারিসে মিউসে ডে ওরসে তে ভিনসেন্ট’র Doctor Gachet's Garden in Auvers এর সামনে আমি
প্যারিসে মিউসে ডে ওরসে তে ভিনসেন্ট’র Doctor Gachet’s Garden in Auvers এর সামনে আমি

(২৯ মার্চ, ২০১১)

3 thoughts on “শুভ জন্মদিন : ভিনসেন্ট

  1. (আমার সব চাইতে প্রিয় এই শিল্পীর জন্মদিনে চোখের জলে শ্রদ্ধা ‍নিবেদন করা ছাড়া আর কিছুই দেয়ার নেই তাঁকে‍ ।)

    …..শ্রদ্ধা রইলো…

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s