তারপর…

আমরা আমাদের – তৃষ্ণা গুলোকে তুলে রাখি সুদৃশ্য এক কাঠের আলমারিতে অনেক যত্নে, ভাজঁ করে; রোদে শুকানো কড়কড়ে কাপড়ের মতো-- সাবানের ঘ্রান মাখা, ল্যাভেন্ডার বা জেসমিন খুলে দেখবো বলে একদিন! আমাদের ইন্দ্রিয় গুলো কে বলে দেই সীমানা— পরিত্যক্ত মৃত রেলগাড়ির মতো সারি সারি শরীরে, পড়ে থাকে পুরোনো কোনো স্টেশনে ধাবমান যাত্রি তা দেখে না । …

Advertisements

তোমার জন্য কবিতা – ২৯

তোমার গায়ে - আজ কি রঙের শার্ট বিচ্ছেদের কবিতা নাকি অনুভুতির আর্ট? হাসের ডিমের মত হালকা নীল; মুডের সাথে রেখে মিল, নাকি বাদামী চেকের মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার? শরতের ধুসরতা আঁকা সেই প্রিয় সময়ের চাকা আমি তো জানি তোমার ওর্য়াড্রোবের ইতিকথা অভিমানে ঠাসা - স্বপ্ন বহুল পাজামা আর পান্জ্ঞাবীর সুতোও জানে সে ব্যাথা! শুধু রেখে দিও …

নিয়তি যখন গিলে খায় স্বপ্নকে !

এডল্ফ  হিটলার  (ছবি সুত্র : উইকিপিডিয়া) সত্য এমন এক রহস্যে মোড়া মুক্তো দানার মতো, পৃথিবী সব সময়ই সেই বৃত্তের চারপাশে আবর্তিত হতে থাকে,  বোধ হয় ! একমিনিট আগেও ঘটে যাওয়া ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আমাদের শার্লক হোমসের  মত অতিবুদ্ধিমান মানুষদের প্রয়োজন হয়। যাদের আমরা দেবতা বলে পূঁজি তাদেরও চরিত্রের কত কলূষিত দিক আছে,  আর যাদের …

দেবী বিসর্জন

জিগসয়ে’র মতো ভেঙ্গে  টুকরো করে আবার আমাকে দেবীর মতো গড়ো --- তোমার কামনার  গন্ধ মেশানো মাটিতে লেগে থাকে  পুজাঁর ঘন্টাধ্বণীর শেষ রেশটুকু পুজাঁর অর্ঘ্য শেষে দেবী বিসর্জন অনিবার্য, জেনে বিষন্ন তুমি দেবী আমি – আমার শরীরের মাটি  নদী জলে  মিশে খেলা করে বাতাস , তোমার নি:শ্বাসের নি:শব্দ  হাহাকারে ! আমার বিসর্জিত শরীর মাটি আর কাদাঁ  …

দধীচি

আমার জীবন সেই  যুদ্ধনিহত দূর্দান্ত সৈনিকের মতো এক দুর্ধর্ষ  যুদ্ধ শেষে— যাকে সমাধি দেয়া হয়, অত্যন্ত আড়ম্বরে একদিন! জানি, অচেনা শিশু এক ফুল চড়াবে কোমোল হাতে... হুসস্— বলে রাখি কানে কানে আমার সমাধির পাথর গুলোও  যুদ্ধের ধংসস্তুপের -- মৃত্যুর আগে আমি গোটা এক জীবন পার করেছি কুরুক্ষেত্রে তারপর হয়েছি সমাধিত ! তুমি কিন্তু যুদ্ধে যেতে …

নিহন্তা

আমাদের নিঃশব্দ ভালোবাসায় সঙ্গমরত শামুকের মিলন ধ্বনি তিরতিরিয়ে ওঠে ... এক প্রাচীন পরাবাস্তব বাগানের আঙ্গিনায়, নাগেশ্বরের শাখে কামনার ফুলে, ভরা ঘ্রানে; সবুজাভ-নীল শীর্ণ সাপ ও এক — বয়ে যায় সময়ের সংকীর্ণতায়; আর আমাদের নিঃশব্দ ভালোবাসায় দীর্ঘশ্বাসের মত চেপে বসে থাকে, দুঃস্বপ্নের ডাকটিকেট রাতের খামে... একদিন— নাগেশ্বরের শাখে সাপ ও শামুকের অট্টহাসিতে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হবে …

উত্তাল লবন ঘেরা সুপ্ত হ্রদ এক

তোমার ঘামে আমার শরীর নেয়ে উঠলে মনে হয়, ক্লান্ত বিছানাও বুঝি  কাদ‍ঁছিলো – চুপিসারে, আমাদের  সঙ্গমে জেগে ওঠে শামুক যত যূথচারী, আমাদের  সঙ্গমে ভেসে ওঠে  শত শহস্র নৌকা অভিমানের, আমাদের  সঙ্গমে  চালতা ফুলের ঘ্রানে খুনসুটি করে আমার চুল ও তোমার হাতঘড়ী --- তোমার তপ্ত শ্বাসে ‍আমার দিবাস্বপ্নের খসড়াগুলি উড়ে যায় যেনো প্রজাপতি ও আগাছাফুলের   মিতালী... …

অভিমানে অভিসার

তোমাকে ভেবে আজ আমি সুন্দরী নেফরতিতি হবো যদি প্রতিশ্রুতি  দাও-- তবে চুলে থাকবে নীল  শাপলা জোনাকির আলোর মতো জ্বলজ্বলে, আমার বাহুতে তিনটি তিল কালো সেগুলোও জ্বলবে, কালপুরুষের কোমোরের অলংকারের সেই তিনটি তারার মতো যা কিনা মিশরের  সেই তিনটি পিরামিডের মতো--- ঘোষনা করবে অসীম মহিমায় আমার শরীরে তোমার অধিকার ! প্রিয়, যদি তুমি আজ প্রতিশ্রুতি দাও, …

শামুক এক অনাহূত

আমার হয়ত জন্ম হয়নি আজও খুঁজে বেড়াই আর ভাবি— জীবনে স্বপ্ন থাকে নাকি স্বপ্নে জীবন? জীবনতো আর কিছু নয় আমার; দু:স্বপ্নের বপন । সদ্যজাতও টেনে নেয় মাতৃস্তন থেকে জীবনের সুধা, স্বত:স্ফূর্ততায় আমার সমস্ত অস্তিত্ব হারায় জরায়ুর সীমানায়— আমার হয়ত জন্ম হয়নি আজও ; খুঁজে বেড়াই সাদা কাফনে মোড়া নিজ মরদেহ মর্গের বারান্দায়... ঘুম থেকে জেগে …